ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা নয়দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমদানি-রফতানি শুরুর প্রথম দিনে ভারত থেকে ১২৬টি ট্রাকে করে ৫ হাজার ৪৪৭ টন চাল বন্দরে এসে পৌঁছেছে। গতকাল বেলা ১১টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত বন্দর দিয়ে এসব চাল আমদানি করা হয়। সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকরা জানিয়েছে, চাল আমদানির সময়সীমা শেষের দিকে হওয়ায় সামনের দিনে আমদানি আরো বাড়বে।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক জানান, ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ২৮ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল শনিবার পর্যন্ত টানা নয়দিন এ বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বন্ধ ছিল। ছুটি শেষে রোববার বেলা ১১টায় ভারত থেকে চালবোঝাই ট্রাক দেশে প্রবেশের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে ফের বাণিজ্য শুরু হয়েছে।
হিলি স্থলবন্দরের চাল আমদানিকারক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে টানা নয়দিন এ বন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ ছিল। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে চাল আমদানির অনুমতির সর্বশেষ সময়সীমা ছিল ৬ এপ্রিল। সে হিসেবে আজ (রোববার) চাল আমদানির শেষ দিন হওয়ায় ও বন্দর দিয়ে আজ থেকে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হওয়ায় প্রথম দিনে প্রচুর পরিমাণ চাল এসেছে।’
এদিকে গতকাল খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে চাল আমদানির অনুমতির মেয়াদ আরেক দফা বাড়িয়ে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে আগামী দিনগুলোয় চাল আমদানির পরিমাণ বাড়িয়ে দেবেন অনুমতিপ্রাপ্ত আমদানিকারকরা।
এছাড়া দেশের বাজারে আমদানীকৃত চালের চাহিদা অনেকটাই বেড়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন মোকাম থেকে পাইকাররা বন্দরে আসছেন চাল কিনতে। বন্দরে আমদানীকৃত শম্পাকাটারি জাতের চাল ৬৫-৬৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর স্বর্ণা জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫১-৫২ টাকা কেজিতে।
হিলি স্থলবন্দর পরিচালনাকারী পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপক অশিত সান্যাল বলেন, ‘টানা নয়দিন বন্ধের পর আজ ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য শুরু হয়েছে। আজ প্রথম দিনে বন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি হয়েছে। আজ বন্দর দিয়ে মোট ১৫৭ ট্রাকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হয়েছে, এর মধ্যে ১২৬টি ট্রাকে ছিল ৫ হাজার ৪৪৭ টন চাল।’
জানা যায়, বন্দরে কর্মরত শ্রমিকরা এদিন সকালেই কর্মস্থলে এসে উপস্থিত হন। ফলে বন্দরের অভ্যন্তরে ট্রাক থেকে পণ্য লোড-আনলোড ও ডেলিভারি দেয়াসহ সব কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা চাহিদা অনুযায়ী পণ্য কিনতে হিলি স্থলবন্দরে আসতে শুরু করেছেন। এতে করে বন্দর এলাকায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে। তবে ছুটির আমেজ কাটিয়ে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরো দুই-একদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।